শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪০ পূর্বাহ্ন

নোটিশ :
www.shobshomoy.com নিউজে আপনাকে স্বাগতম | সবসময় সবার আগে, নির্ভুল ও নিরপেক্ষ সংবাদ। Welcome to www.shobshomoy.com News | Always First with Fast, Accurate & Unbiased News.
শিরোনাম :
কানাইঘাট সীমান্তে পড়ে থাকা খালেদের লাশ উদ্ধার পতনউষারে রিসোর্টের আড়ালে অসামাজিক কার্যক্রমের আখড়ায় বিপথগামী যুব সমাজ সিলেটে ৯ কোটি ৬০ লাখ টাকার চার ফুটওভারব্রিজ, জনসাধারণের কাজে আসেনি একটিও কদমতলী ওয়েলফেয়ার ইউকে ‘‘মানবতার কল্যাণে’’ কাজ করে যাচ্ছে চুনারুঘাটে দুর্গাপূজা উপলক্ষে আনসার-ভিডিপি সদস্যদের ব্রিফিং অনুষ্ঠিত বিশ্বনাথে বিনামূল্যে কলেজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই বিতরণ কানাইঘাটে আজিজুর হত্যা মামলার প্রধান আসামী গ্রেফতার যুক্তরাষ্ট্রে ১১ দিনের ব্যবধানে দুই ভাইয়ের মৃত্যু, শোকের মাতম চুনারুঘাটে কানাইঘাট স্টেডিয়ামে চেয়ার স্থাপন ও বৃক্ষরোপন করলেন মাহমুদা সুলতানা জিয়া শিশু-কিশোর সংগঠন সিলেটের যুগ্ম আহবায়ক হলেন আব্দুর নুর কমলগঞ্জে তিন চা বাগান শ্রমিকদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অবিরাম ভাঙছে পাহাড়-চা বাগানের টিলা, নেই স্থায়ী প্রতিরোধের ব্যবস্থা জৈন্তাপুরে ২১ পূজামণ্ডপে সিসি ক্যামেরা ও অনুদান বিতরণ কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৯ বছর পর প্রথম সিজারিয়ান সিলেটে প্রবাসিদের নিরাপত্তা নিয়ে যা জানাল পুলিশ আদালতের নির্দেশে লোভাছড়া পাথর কোয়ারীতে উচ্চ পযার্য়ের তদন্ত কমিটি ধর্মীয় উৎসবে সম্প্রীতি অটুট রাখতে হবে: এমপি সৈয়দ মো. ফয়সল গোয়াইনঘাটে বদরুল হত্যা: সন্দেহভাজন আসামি আটক গোয়াইনঘাটে দুর্বৃত্তদের হামলায় সাবেক ছাত্রদল নেতা নিহত পূর্ব ইসলামপুরে ইউপি সদস্য হয়ে জনগণের সেবা করতে চান- ছবুর হোসেন তালুকদার সিলেটে কিশোর গ্যাং দমনে সাফল্য, সীমান্তে চোরাচালানের ‘অদৃশ্য নেটওয়ার্ক’ নিয়ে প্রশ্ন কিন ব্রিজের পাশে ঝুলন্ত সেতু করবেন বাণিজ্যমন্ত্রী সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ মহাসড়কে ঘাতক বাসের ধাক্কায় ৯ মাসের শিশুসহ মা নিহত এড. আব্দুল্লাহ আল হেলাল পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) হওয়ায় সংবর্ধিত কানাইঘাট সীমান্তে গুলিবিদ্ধ যুবকের লাশ উদ্ধার কমলগঞ্জে শ্রমিক নেতা মফিজ আলীর ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল হোসেন, সম্পাদক কে.এম. লিমন সিলেট জজ আদালতের এপিপি হলেন এড. আব্দুল্লাহ আল হেলাল ও এড. আলা উদ্দিন কানাইঘাটের সাতবাঁকে জাসাসের অভিষেক অনুষ্টান সম্পন্ন বিশ্ব ডিম দিবসে বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বর্ণাঢ্য র‍্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
সিলেটে ৯ কোটি ৬০ লাখ টাকার চার ফুটওভারব্রিজ, জনসাধারণের কাজে আসেনি একটিও

সিলেটে ৯ কোটি ৬০ লাখ টাকার চার ফুটওভারব্রিজ, জনসাধারণের কাজে আসেনি একটিও

পারভেজ আহমদ :::

নগরীর যানজট নিরসন, পথচারীদের নিরাপদে সড়ক পারাপার এবং জনদুর্ভোগ কমানোর কথা ছিল প্রকল্পগুলোর মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত চারটি ফুটওভারব্রিজই এখন সিলেট নগরীতে পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও জনস্বার্থের সঙ্গে প্রকল্পের বাস্তব ব্যবহারের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। নির্মাণের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এসব ফুটওভারব্রিজ প্রত্যাশিতভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে বিপুল সরকারি অর্থ ব্যয়ের পরও কাঙ্ক্ষিত সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন নগরবাসী।

 

 

সিলেট নগরীর কোর্ট পয়েন্ট, টিলাগড়, হুমায়ূন রশিদ চত্বর ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কে নির্মিত চারটি ফুটওভারব্রিজের পেছনে ব্যয় হয়েছে মোট ৯ কোটি ৬০ লাখ ২৮ হাজার ৫৮৯ টাকা। অথচ এসব স্থাপনা নির্মাণের পরও পথচারীদের একটি বড় অংশ সড়ক দিয়েই পারাপার হচ্ছেন বলে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে। এতে একদিকে প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, অন্যদিকে বিপুল অর্থ ব্যয়ের বিপরীতে জনসাধারণের প্রাপ্ত সুফল কতটুকু, তা নিয়েও দেখা দিয়েছে বিতর্ক।

 

 

নগর পরিকল্পনাবিদদের দৃষ্টিতে, কোনো এলাকায় ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের আগে পথচারীদের চলাচলের ধরন, সড়কের দুই পাশের সংযোগ, ওঠানামার সুবিধা, বিকল্প পারাপারের ব্যবস্থা এবং মানুষের ব্যবহার-প্রবণতা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। এসব বিষয় যথাযথভাবে যাচাই না করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে অবকাঠামো নির্মিত হলেও তা জনসাধারণের দৈনন্দিন প্রয়োজনে কার্যকর নাও হতে পারে। সিলেটের ফুটওভারব্রিজগুলো ঘিরে সেই প্রশ্নই সামনে এসেছে।

 

কোর্ট পয়েন্টের ফুটওভারব্রিজ: এক দশকেও মিলল না প্রত্যাশিত ব্যবহার

সিলেট নগরীর গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী স্থান কোর্ট পয়েন্টে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় একটি ফুটওভারব্রিজ। তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ইচ্ছায় সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) এটি নির্মাণ করে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে।

 

 

কোর্ট পয়েন্ট দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ, মিছিল ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে পরিচিত। সেখানে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের পর স্থানটির স্বাভাবিক পরিবেশ, সৌন্দর্য ও ব্যবহার নিয়ে আপত্তি ওঠে। সমালোচকদের মতে, নগরীর ঐতিহ্যবাহী এই স্থানে এমন স্থাপনা নির্মাণের আগে এর সামগ্রিক প্রভাব ও প্রয়োজনীয়তা আরও গভীরভাবে যাচাই করা দরকার ছিল।

 

 

নির্মাণের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ফুটওভারব্রিজটি পথচারীদের নিয়মিত পারাপারের কার্যকর মাধ্যম হয়ে উঠতে পারেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। সাধারণ মানুষ ব্রিজ ব্যবহার না করায় এটি অনেকটা অব্যবহৃত স্থাপনায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতে এর আশপাশে ভবঘুরে ও মাদকসেবীদের আনাগোনাও দেখা যায়। ফলে জননিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও নগর ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

 

 

একটি প্রকল্প নির্মাণের পর তা ব্যবহার উপযোগী রাখা, প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ করা এবং জনসাধারণকে ব্যবহারে উৎসাহিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। কিন্তু কোর্ট পয়েন্টের ফুটওভারব্রিজের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনেও প্রত্যাশিত ব্যবহার নিশ্চিত না হওয়ায় প্রকল্পটির কার্যকারিতা নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে।

 

 

সবচেয়ে বড় জটিলতা তৈরি হয়েছে স্থাপনাটি অপসারণের প্রশ্নে। ব্যয়বহুল এই ফুটওভারব্রিজ বিক্রির জন্য সিসিক একাধিকবার দরপত্র আহ্বান করলেও কাঙ্ক্ষিত সাড়া পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ফলে এটি অপসারণ বা বিক্রির উদ্যোগও সফল হয়নি। জনসাধারণের কাজে না লাগলেও স্থাপনাটি এখন সিটি করপোরেশনের জন্য বাড়তি ব্যবস্থাপনাগত জটিলতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একটির অভিজ্ঞতার পরও থামেনি নির্মাণ

 

কোর্ট পয়েন্টের ফুটওভারব্রিজ নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পরও নগরীর অন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একই ধরনের অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। পরবর্তী বছরগুলোতে টিলাগড়, হুমায়ূন রশিদ চত্বর এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আরও তিনটি ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ করে সিসিক।

 

 

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে টিলাগড়ে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণে ব্যয় হয় ২ কোটি ৪ লাখ ৬২ হাজার ৩৮৮ টাকা। ২০২২ সালে হুমায়ূন রশিদ চত্বরে আরেকটি ফুটওভারব্রিজ নির্মাণে ব্যয় হয় ২ কোটি ৭৫ লাখ ৩১ হাজার ৭৪ টাকা। এরপর ২০২৩ সালে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের ওপর নির্মিত ফুটওভারব্রিজে ব্যয় হয় ৩ কোটি ১৭ লাখ ৩৫ হাজার ১২৭ টাকা।

 

 

কোর্ট পয়েন্টের ব্রিজসহ চারটি প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়ায় ৯ কোটি ৬০ লাখ ২৮ হাজার ৫৮৯ টাকা। অর্থাৎ প্রায় ১০ কোটি টাকার সরকারি অর্থ ব্যয় করে নগরীতে চারটি ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু নির্মাণের পর এসব স্থাপনা পথচারীদের নিয়মিত পারাপারে কতটা ভূমিকা রাখছে, তার নির্ভরযোগ্য ব্যবহার-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে না থাকায় প্রকল্পগুলোর কার্যকারিতা মূল্যায়ন নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

 

 

জনগণের করের অর্থে নির্মিত কোনো অবকাঠামো কেবল নির্মাণ শেষ করেই দায়িত্ব শেষ করার বিষয় নয়। প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা, ব্যবহারকারীর সুবিধা, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় এবং দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সেই বিবেচনায় সিলেটের চারটি ফুটওভারব্রিজের বর্তমান অবস্থা নগর উন্নয়ন প্রকল্পের পরিকল্পনা ও মূল্যায়নপ্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।

রাস্তা পারাপারে কেন আগ্রহী নন পথচারীরা?

 

ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো পথচারীদের নিরাপদে সড়ক পারাপারের সুযোগ সৃষ্টি করা। কিন্তু বাস্তবে মানুষ যদি সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে আগ্রহী না হন, তবে শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করে সেই উদ্দেশ্য অর্জন সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে ব্রিজের অবস্থান, দুই পাশের সংযোগ, সিঁড়ির সুবিধা, শারীরিকভাবে চলাচলে অসুবিধা রয়েছে এমন মানুষের ব্যবহারযোগ্যতা এবং পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচলের পথ বিবেচনা করা প্রয়োজন।

 

 

কোনো কোনো ক্ষেত্রে সড়কের ওপর ফুটওভারব্রিজ থাকলেও মানুষ সরাসরি রাস্তা পার হন। এর পেছনে সময় বাঁচানোর প্রবণতা, ব্রিজে ওঠানামার অসুবিধা, গন্তব্যের সঙ্গে সংযোগের সমস্যা কিংবা পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থার অভাব কাজ করতে পারে। সিলেটের চারটি ফুটওভারব্রিজের ক্ষেত্রেও এসব বিষয় যাচাই করা জরুরি।

 

 

প্রশ্ন হচ্ছে, প্রকল্প গ্রহণের আগে এসব এলাকায় পথচারীদের চলাচল নিয়ে কোনো সমীক্ষা করা হয়েছিল কি না। করা হয়ে থাকলে সেই সমীক্ষায় কী তথ্য উঠে এসেছিল? প্রকল্প বাস্তবায়নের পর ব্যবহারকারীর সংখ্যা, জনসন্তুষ্টি ও সড়ক পারাপারের পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হয়েছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। এসব তথ্য সামনে এলে প্রকল্পগুলোর সাফল্য বা ব্যর্থতার কারণ আরও স্পষ্ট হবে।

ব্যয় হয়েছে কোটি কোটি টাকা, এখন অপসারণও কঠিন

অব্যবহৃত অবকাঠামোর সমস্যা শুধু নির্মাণব্যয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। নির্মাণের পর স্থাপনাগুলো রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায়ও প্রশাসনিক উদ্যোগ প্রয়োজন। অন্যদিকে, কোনো স্থাপনা অপসারণ করতে গেলে ভাঙার খরচ, মালামাল বিক্রির মূল্য এবং সংশ্লিষ্ট কারিগরি বিষয় বিবেচনায় নিতে হয়।

 

 

কোর্ট পয়েন্টের ফুটওভারব্রিজের ক্ষেত্রে সিসিকের একাধিক দরপত্র আহ্বানের পরও কাঙ্ক্ষিত মূল্য না পাওয়ার তথ্য এই জটিলতার বিষয়টি সামনে এনেছে। ফলে নির্মাণের সময় বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও পরবর্তী সময়ে স্থাপনাটি সরিয়ে ফেলার উদ্যোগও সহজ হচ্ছে না।

 

 

এ পরিস্থিতিতে নগরবাসীর মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে যদি সম্ভাব্য ব্যবহার ও দীর্ঘমেয়াদি প্রয়োজনীয়তা আরও গভীরভাবে যাচাই করা হতো, তাহলে কি এ ধরনের পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব ছিল? একই সঙ্গে, অব্যবহৃত স্থাপনাগুলোর বর্তমান অবস্থা মূল্যায়ন করে এগুলোকে কীভাবে জনস্বার্থে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়েও সিসিকের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন।

প্রকল্পের সিদ্ধান্ত ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

 

স্থানীয় পর্যায়ে এসব প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো উন্নয়ন প্রকল্পে জনসাধারণের প্রকৃত চাহিদা ও নগর পরিকল্পনার চেয়ে প্রভাবশালী মহলের আগ্রহ বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে প্রকল্পের অনুমোদনপত্র, সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, দরপত্রের নথি, ব্যয়ের বিবরণ এবং বাস্তবায়ন-পরবর্তী মূল্যায়ন পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

 

 

কেবল প্রকল্প অব্যবহৃত থাকলেই দুর্নীতি বা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হয় না। তবে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও প্রত্যাশিত জনসেবা নিশ্চিত না হলে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপের জবাবদিহি জরুরি হয়ে পড়ে। কেন প্রকল্পগুলো নেওয়া হয়েছিল, বিকল্প কোনো ব্যবস্থা বিবেচনা করা হয়েছিল কি না এবং নির্মাণের পর ব্যবহার নিশ্চিত করতে কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া প্রয়োজন।

সিসিকের বক্তব্য

 

এ বিষয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শামসুল ইসলাম বলেন, “ফুটওভারব্রিজ দিয়ে লোকজন যেভাবে রাস্তা পারাপার করবেন আশা করা হয়েছিল, সেভাবে সাড়া মেলেনি। বন্দরবাজারের ফুটওভারব্রিজটি অপসারণের জন্য কয়েকবার দরপত্র আহ্বান করেও কাঙ্ক্ষিত মূল্য না পাওয়ায় সেটি বিক্রি করাও সম্ভব হয়নি।”

 

 

সিসিকের এই বক্তব্যে প্রত্যাশিত ব্যবহার নিশ্চিত না হওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে চারটি ফুটওভারব্রিজের বর্তমান ব্যবহার পরিস্থিতি, নির্মাণের আগে সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রকল্পগুলোর মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে সামগ্রিক চিত্র আরও পরিষ্কার হবে।

পরিকল্পিত নগর উন্নয়নই এখন বড় চ্যালেঞ্জ

 

সিলেটের চারটি ফুটওভারব্রিজের অভিজ্ঞতা নগর উন্নয়নে একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে এনেছে—উন্নয়ন কি শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি মানুষের বাস্তব প্রয়োজন ও ব্যবহার নিশ্চিত করাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে?

 

 

নগরীর যানজট নিরসন ও নিরাপদ পারাপারের জন্য অবকাঠামো প্রয়োজন। তবে সেই অবকাঠামো কোথায় হবে, কীভাবে নির্মিত হবে এবং মানুষ তা ব্যবহার করবেন কি না—এসব বিষয় বিবেচনা না করলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন। বিশেষ করে সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে প্রকল্প শুরুর আগেই বাস্তবসম্মত সমীক্ষা, স্বচ্ছ সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং নির্মাণের পর কার্যকারিতা মূল্যায়ন নিশ্চিত করা জরুরি।

 

 

এখন সিলেটের অব্যবহৃত ফুটওভারব্রিজগুলোর বিষয়ে সিসিক কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেগুলো সংস্কার করে ব্যবহার উপযোগী করা সম্ভব কি না, নাকি বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নিতে হবে—সেদিকে তাকিয়ে আছেন নগরবাসী। পাশাপাশি প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত চারটি প্রকল্পের পরিকল্পনা, ব্যবহার ও ব্যয়ের কার্যকারিতা নিয়ে স্বচ্ছ মূল্যায়নের দাবি উঠেছে।

 

 

নগরবাসীর প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক আগ্রহের পরিবর্তে জনসাধারণের প্রকৃত প্রয়োজন, সম্ভাব্যতা যাচাই এবং দীর্ঘমেয়াদি সুফলকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। কারণ উন্নয়নের সার্থকতা স্থাপনার আকার কিংবা ব্যয়ের পরিমাণে নয়; বরং মানুষের জীবনযাত্রায় তার বাস্তব উপকার কতটা নিশ্চিত হলো, তার ওপরই নির্ভর করে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Comments are closed.




© All rights reserved © 2023 shobshomoy.com
Design BY Web Nest BD
shobshomoy.com